Logo
প্রিন্টের তারিখ: 22 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 22, 2026

সংবাদ শিরোনাম : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিউজ ডেস্ক, ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬:

শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী এফসিডিও (FCDO), আইএলও (ILO) ও বিশ্বব্যাংকের (World Bank) অংশীদারত্বে চলমান ‘রাইজ’ (RAISE) প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হলে তরুণদের বৈধ ও নিরাপদ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরে অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান। তিনি ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নেও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্যে অল্পসংখ্যকের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে; বাকিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যাদের আশ্রয়ের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং যারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দেশজনতা
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ Ummah Host BD
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF